Friday, June 12, 2020

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিতা বাঘের মৃত্যু রাজস্থানে

দেশ

পশু বসুন্ধরা, ভিলওয়ারা, রাজস্থান, ১১/০৬/২০২০ :  রাজস্থানের ভিলওয়ারার কাছে আজ একটি চিতা বাঘের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে।  চিতাবাঘটি গ্রামের কাছেই চলে এসেছিল। 
চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার রামপুরিয়া গ্রামের কাদেরা এলাকায়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই গ্রামের আশেপাশে চিতাবাঘ চলে এসেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আজ সেই চিতাবাঘটিকে অনেকেই গ্রামের কাদেরা এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন। চিতা বাঘটি সম্ভবত জলের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সে কারোর কোনো ক্ষতি করেনি। 
আজ সকাল হতেই গ্রামের পথঘাটে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। তখন চিতাবাঘটি একটি গাছের মাথায় উঠে বসে। সেই গাছের কাছ দিয়েই একটি হাই টেনশন ইলেকট্রিক তার গিয়েছে কাছের বক্সাইট খনিতে। বাঘটি কোনোভাবে বেসামাল হয়ে ওই হাই টেনশন তারের সংস্পর্শে আসতেই বিদ্যুতের আঘাতে ছিটকে পড়ে যায়  নিচে। সঙ্গে সঙ্গেই চিতাবাঘটি মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শিরা।
এর পর ভিলওয়ারা  বন দপ্তরের কর্মীরা এসে চিতাবাঘের দেহ সরিয়ে নিয়ে যায়। মৃত এই চিতাবাঘের দেহ ময়না তদন্ত করে দেখা হবে, মৃত্যুর আগে কোনো মানুষের দ্বারা তাকে অত্যাচারিত হতে হয়েছিল কিনা, সেটা জানার জন্যে।

Wednesday, June 10, 2020

২ সপ্তাহ ধরে প্লাস্টিক টেপ দিয়ে মুখ আটকানো কুকুর শাবক উদ্ধার কেরালায়

দেশ

পশু বসুন্ধরা, থ্রিসুর, কেরালা, ১১/০৬/২০২০ : কেরালা রাজ্যে পশু নির্যাতন অব্যাহত। এবার কেরালায়  একটি কুকুর শাবকের মুখ দুই সপ্তাহ ধরে টেপ দিয়ে আটকে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এল।   
কেরালার থ্রিসুর জেলার ওল্লুরে একটি পশু কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একটি কুকুর শাবককে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছে, যার মুখ শক্ত করে টেপ দিয়ে আটকানো ছিল। ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কুকুর শাবকের মুখ প্লাস্টিক টেপ দিয়ে শক্ত করে আটকানো ছিল বিগত দুই সপ্তাহ ধরে। এর ফলে সে গত দুই সপ্তাহ ধরে খাবার খেতে পারে নি; এমনকি জল পান করতেও পারেনি। রাস্তা থেকে এই কুকুর শাবকটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পশুপ্রেমীরা জানিয়েছেন, এই শাবকটির মুখ এত শক্ত করে প্লাস্টিক টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল যে, সে আর নিজে থেকে খুলতে পারে নি। আর দুই সপ্তাহ ধরে এই প্লাস্টিক টেপ তার মুখের চামড়ার সাথে পুরোপুরি সেঁটে  যায়, যেটা খুলতে গিয়ে বেশ কষ্ট পেতে হয়েছে ওই শাবকটিকে। টেপ খুলে দেওয়ার পর শাবকটি অন্তত দুই লিটার জল পান করেছে। এর পর ওই কুকুর শাবকের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। ওই শাবকটির গলায় একটি কলার পড়ানো ছিল, তাতে মনে হচ্ছে এটি কারোর  পোষা কুকুর ছিল। কুকুর শাবকটি আপাতত ভাল আছে।
কিছুদিন আগেই কেরালায় আনারসের মধ্যে বোমা পুড়ে হাতিকে খেতে দেওয়া হয়েছিল। যে বোমা ফেটে গিয়ে অন্ত্বঃসত্তা  হাতিটির মৃত্যু হয়েছিল। একই কায়দায় কিছুদিন আগে আরও একটি হাতিকে কেরালায় মারা হয়েছিল।  কেরালায় পশু নির্যাতনের ঘটনা বার বার প্রকাশ্যে আসছে। তবু কেরালা সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর আগে একবার কয়েক হাজার পথ কুকুরকে হত্যা করা হয়েছিল ঈশ্বরের আপন দেশ কেরালায়। আমাদের দেশে পশু নির্যাতনের জন্যে কোনো কঠোর আইন না থাকায়, অত্যাচারীরা যেমন সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়, তেমনি পশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও বেড়ে চলেছে ব্যাপক হারে। 

কুয়ার মধ্যে চিতাবাঘকে উদ্ধার করা হল তিন ঘন্টায়

কুয়ার মধ্যে চিতাবাঘকে উদ্ধার করা হল তিন ঘন্টায়

পশু বসুন্ধরা, ছোট উদেপুর, গুজরাট, ১০/০৬/২০২০ :  আজ সকালে গুজরাটের ছোট উদেপুর গ্রামে একটি কুয়ার মধ্যে একটি চিতাবাঘ পড়ে যায়, দীর্ঘ  প্রচেষ্টার পর সেই চিতাবাঘকে উদ্ধার করেন  গুজরাটের বন দপ্তরের কর্মীরা।
আজ সকালে গ্রামবাসীরা কুয়া থেকে জল তুলতে গিয়ে দেখেন কুয়ার মধ্যে একটি চিতাবাঘ পড়ে গিয়েছে। গ্রামবাসীদের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়েছিল সেই চিতাবাঘটি। ৫০ ফুট গভীর ওই কুয়ার মধ্যে একটি লোহার রডের ওপর সে বসে ছিল। 'কুয়ায় বাঘ পড়েছে' খবরটা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচুর গ্রামবাসী চিতাবাঘ দেখতে হাজির হন। ইতিমধ্যে খবর যায় বন দপ্তরে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বন দপ্তরের কর্মীরা।
কুয়ার ধরে পৌঁছে বন দপ্তরের কর্মীরা একটি মই সিঁড়ি সঙ্গে দড়ি দিয়ে কুয়ায় মধ্যে ঝুলিয়ে দেন। তার আগে কুয়ার ধার থেকে অবশ্য গ্রামবাসীদের ভিড় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন দপ্তরের ঝুলিয়ে দেওয়া মই সিঁড়ি বেয়ে স্ত্রী চিতাবাঘটি সাবধানে ওপরে উঠে আসে। কিন্তু তারপর এতটুকু সময় নষ্ট না করে সে ছুটে অরণ্যে ঢুকে যায়। তিন  ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে স্ত্রী চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করেন বন কর্মীরা। 

সৌজন্যে : ANI

গির অরণ্যে বেড়েছে সিংহের সংখ্যা

গির অরণ্যে বেড়েছে সিংহের সংখ্যা



পশু বসুন্ধরা, ১০/০৬/২০২০ : আমাদের  দেশে সবথেকে বেশি সংখ্যক সিংহ রয়েছে গুজরাটের গির অরণ্যে. সেখানে বর্তমানে সিংহের  সংখ্যা  বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
গত  ৫বছরে গুজরাটের গির অরণ্যে এশিয়ান সিংহের সংখ্যা বেড়েছে দেড়শর বেশি বলে জানা গিয়েছে বন মন্ত্রক সূত্রে। পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালে গুজরাটে সিংহের সংখ্যা ছিল ৫২৩, আর এখন ২০২০ সালে সেখানে সিংহের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৭৪. গত পাঁচ বছরে ১৫১টি সিংহ  বেড়ে গিয়েছে সেখানে। অর্থাৎ গুজরাটে শতকরা হিসেবে ২৮% বেড়ে গিয়েছে মোট সিংহের সংখ্যায়। 
এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে গুজরাটে সিংহ শুমারি করা হয়েছিল, আর পাঁচ বছর পরে  এবছরেরও মে মাসে সিংহের শুমারি করা হয়েছে। আর তাতেই এই  তথ্য উঠে এসেছে। প্রতি ৫ বছর অন্তর গুজরাটে সিংহের শুমারি করা হয়, অন্যান্য বারের তুলনায় এই শেষ ৫ বছরে সিংহের সংখ্যায় বৃদ্ধির হার অন্যতম সেরা বলে জানিয়েছেন গুজরাটের চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন। 
গুজরাটের বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সিংহের সংখ্যায় এই বৃদ্ধির পিছনে অনেকগুলি কারন রয়েছে যেমন, প্রজনন বৃদ্ধির  পরিকল্পনা, উন্নত  প্রযুক্তির ব্যবহার,  ওয়াইল্ড লাইফ হেলথ কেয়ার, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা,  শিকার বা আহার্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষ-সিংহ সংঘাত হ্রাস করা; এই সব কিছুর ফলস্বরূপ গির অরণ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে সিংহের সংখ্যা। আমাদের দেশে দীর্ঘমেয়াদি বন্যপশু সংরক্ষণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

Thursday, June 4, 2020

নৃশংসভাবে পশু হত্যা করাটাকে একেবারে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে কেরালার এক শ্রেণীর মানুষ

ভারত

পশু বসুন্ধরা, ০৪/০৬/২০২০ : কেরালার মানাপ্পুরমে নৃশংসভাবে অন্তঃসত্ত্বা হস্তিনীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে আজ জানালেন দেশের পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।  সরব হয়েছেন স্মৃতি ইরানীও, বলেছেন, "পশুদের বোমা খাওয়ানো আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়"। ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন মানেকা গান্ধী। 
কেরালার সাইলেন্ট ভ্যালি থেকে একটি হস্তিনী খাবারের খোঁজে মনপ্পুরম জেলার আট্টাপাড্ডি  গ্রামে চলে এসেছিল। কয়েকজন গ্রামবাসী সেই হস্তিনীকে একটি আনারস খেতে দিয়েছিল। সরল বিশ্বাসে হস্তিনী সেই আনারসটি মুখে পুড়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা সেই আনারসের মধ্যে ভরে দিয়েছিল বোমা। সেই বোমা  হস্তিনীর মুখেই ফেটে যায়।রক্তাক্ত হস্তিনী কারোর কোনো ক্ষতি না করে পাশেই বয়ে চলা ভেল্লিয়ার নাদির মাঝ বরাবর গিয়ে তার পেট ও মাথা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সে বুঝতে পেরেছিল, তার মৃত্য আসন্ন। হস্তিনীর পেটে ছিল ছয় মাসের বাচ্ছা। যাতে বাচ্ছার কোনো ক্ষতি না হয় তাই সে পেট ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল অনেক্ষন। বন্ দপ্তরের কর্মীরা চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে নড়াতে পারে নি। ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই  তার মৃত্যু হয়।
ওই হস্তিনীর দেহ যে ডাক্তার ময়না তদন্ত করেন, গতকাল  সেই পশুচিকিৎসক মোহন কিষান ঘটনার বয়ান দিতে গিয়ে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ঝড় বয়ে যায় গতকাল। সবাই বলতে থাকেন, "মানুষ কিভাবে এতটা নৃশংস হতে পারে। নিজেদেরকে মানুষ হিসেবে ভাবতেই লজ্জা করছে।" সত্যিই লজ্জায় মাথা হেঁটে হয়ে যায়। গোটা বিশ্ব এখন এই ঘটনার জন্যে ধিক্কার জানাচ্ছে।
কিন্তু কেরালার এই মনপ্পুরম জায়গাটির এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে লজ্জা শরম বিষয়টাই নেই। এরা  এরকমই। কিছুদিন আগে ঠিক এভাবেই একটি হাতিকে  মেরেছিল এখানকার গ্রামবাসীরা বলে জানতে পারা যাচ্ছে। সেই হাতিটিকে অরণ্যের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। সেই হাতিটিরও চোয়াল ভেঙে গিয়েছিল, ঠিক যেমন এই হস্তিনীর চোয়ালও ভেঙে গিয়েছিল। সেই হাতিটির শুঁড় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। বন্ দপ্তরের কর্মীরা অনেক চেষ্টার পরে  বেহুঁশ করে চিকিৎসা শুরু করলেও তাকে আর বাঁচানো যায় নি;
মনপ্পুরমের একশ্রেণীর মানুষ এরকমই। ২০১৬ সালে বিষ খাইয়ে এখানকার মানুষ প্রায় ৪০০টি পথ কুকুরকে হত্যা করেছিল। কোনো শাস্তি তাদের হয় নি। এরা পথে ঘাটে বিষ ছড়িয়ে রাখে পশু পাখিকে মারার জন্যে। অথচ কোনো অজ্ঞাত কারণে এদের কোনো শাস্তি হয় না। এবারেও হয় নি। অন্তত এখনো পর্যন্ত হয় নি। কেরালার বন মন্ত্রী কে রাজু জানিয়েছেন, "একটি হাতি সারা দিনে কয়েক কিলোমিটার ঘুড়ে বেড়ায়, ঠিক কোন জায়গায় কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা খুব মুশকিল।" এই হল কেরালা সরকারের মনোভাব। নৃশংসভাবে পশু হত্যা করাটাকে একেবারে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে কেরালার এক শ্রেণীর মানুষ।
গতকাল ভগবানের আপন দেশ কেরালায় যে বর্বরোচিত হাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাতে দেশের আপামর সাধারণ মানুষ গর্জে উঠে বলেছে 'অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।, অনেকেই দোষীদের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন অনেকেই,  অনুষ্কা শর্মা, অক্ষয় কুমার, বরুন ধাওয়ান, জন আব্রাহাম, আলিয়া ভাট, দিশা পাটানি এবং দিয়া মির্জারা দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। অর্জুন কাপুর বলেছেন, "আমরা হেরে গিয়েছি। এই গ্রহটাকে রক্ষা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই গ্রহেই অন্যান্য যে সব প্রজাতি আমাদের সাথেই বসবাস করে আমরা তাদেরকে ন্যূনতম শ্রদ্ধাটুকুও করতে পারি নি. কেরালার ঘটনায় আমাকে স্তম্ভিত করেছে।"
আসলে আমাদের দেশে বন্য প্রাণীকে বা অন্যান্য পশুকে হত্যা বা নির্যাতনের জন্যে কোনো কঠোর আইন নেই। আমাদের দেশে তাই পশুরা খুব বেশি সুরক্ষিত নয় বলেই মনে করেন দেশের পশুপ্রেমীরা। যাঁরা আইন প্রণয়ন করেন, তাঁদেরকেও এই ঘটনা বিচলিত করেছে, কিন্তু পশু নির্যাতনের জন্যে একটি কঠোর আইন কি তাঁরা নিয়ে আসবেন ? এটাই এখন বড় প্রশ্ন দেশের পশুপ্রেমীদের। 

Sunday, May 31, 2020

লক ডাউনের দিনগুলোয় নিজের পোষা কুকুরদেরকে রাস্তায় বের করে দিয়েছেন অনেকেই

দেশের খবর

পশু বসুন্ধরা, পুনে, মহারাষ্ট্র, ০১/০৬/২০২০ : কুকুরদের থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না। বার বার এই কথা জানিয়েছে দেশ বিদেশের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা। তা সত্ত্বেও অহেতুক ভ্রান্ত ধারণা পোষন করে লক ডাউনের দিনগুলোয় নিজের পোষা কুকুরদেরকে রাস্তায় বের করে দিয়েছেন অনেকেই।
মহারাষ্ট্রের পুনেতে কর্মা ফাউন্ডেশনের প্রিয়া কায়লাডের তেমনটাই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কুকুররা করোনা ভাইরাস ছড়ায় না। তাদের থেকে সংক্রমণের কোনো ভয় নেই। এই কথা জোর দিয়েই বলেছেন দেশ বিদেশের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা। এই বিষয়ে পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধীও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কিছু কুকুর মালিক ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে লক ডাউনের সময় তাদের পোষ্যকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। খাবার আর পানীয় জল না পেয়ে সেই কুকুরদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
কর্মা ফাউন্ডেশনের প্রিয়া জানালেন, "আমরা লক ডাউনের সময় এরকম অন্তত ২০টি কুকুরকে উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে একটি সেন্ট বার্নাড প্রজাতির কুকুরও ছিল। প্রত্যেকটি কুকুরকেই অবশ্য আমরা এডপ্ট করাতে পেরেছি। তারাও নতুন আশ্রয় এবং পরিবার পেয়েছে। কিন্তু এই কুকুরগুলির শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। আমরা প্রত্যেকটি কুকুরকে চিকিৎসা দিতে পেরেছি।"
প্রিয়া জানালেন, "লক ডাউন চলাকালীন আমরা দেড় লক্ষ কুকুর এবং বিড়ালদের খাবার দিতে পেরেছি। যে সব গরু রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং যেগুলি অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকে, তাদের জন্যে আমরা ১১,০০০ কিলো খাবারের আয়োজন করতে পেরেছি। মাথেরন অঞ্চলে বেশ কিছু পরিত্যক্ত ঘোড়া দেখতে পাওয়া যায়, ওদেরকে আমরা মোট ৫,০০০ কিলো খাবার দিতে পেরেছি। ওদেরকে খাওয়ানোর জন্যে আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামেও যেতে হয়েছে।"

পথ কুকুরকে খাবার দেওয়ার জন্যে মার, চীনা মহিলার অভিযোগে গ্রেপ্তার আততায়ী

হচ্ছেটা কি
)
পশু বসুন্ধরা , গ্রেটার নয়ডা, উত্তর প্রদেশ, ৩১/০৫/২০২০ : পথ সারমেয়কে খাবার খাওয়ানো নিয়ে বচসা থেকে মারপিট। এক চীনা  মহিলার অভিযোগে আততায়ী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
গ্রেটার নয়ডার বেটা-২ এলাকায় এটিএস গ্রীন প্যারাডাইস সোসাইটি আবাসনে  থাকেন এক চীনা মহিলা। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে এলাকার পথ সারমেয়দের খাবার দেন। মে মাসের ২৫ তারিখেও তিনি খাবার দিচ্ছিলেন কুকুরদের। ওই আবাসনের এক ব্যক্তি কুকুরদের খাবার দেওয়া নিয়ে ওই চীনা মহিলাকে প্রথমে কটূক্তি করলে ওই মহিলা প্রতিবাদ করেন। এরপরেই দুজনের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়ে যায়। এর পর ওই ব্যক্তি চীনা মহিলাকে বেদম প্রহার করেন বলে অভিযোগ।
নিগৃহীত চীনা মহিলা একটুও দেরি না করে পুলিশে অভিযোগ জানান। বিষয়টি পৌঁছে যায় ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (মহিলা সুরক্ষা) বৃন্দা শুক্লার কাছে। তিনি নিজে তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। আততায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনেকগুলি ধারায় মামলা করা হয়েছে। চীনা  মহিলার মেডিকেল রিপোর্টেও উল্লেখ রয়েছে ওই ব্যক্তির মারে তিনি  জখম হয়েছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের ঘটনা হামেশাই ঘটে থাকে। যে সব পশুপ্রেমীরা পথ সারমেয়দের খাবার খেতে দেন, যাঁরা বিভিন্ন অসুবিধাকেও উপেক্ষা করে লক ডাউনের দিনগুলোতে এক টানা এই পথ সারমেয়াদের খাবার দিয়ে এসেছেন, তাঁদের হামেশাই এই ধরনের আক্রমনের সামনে পড়তে হয়। কখনো হুমকি, কখনো প্রহার আবার কখনো হয়ত নোংরা আক্রমন। তবু কর্তব্যে অবিচল থেকে এই পশু প্রেমীরা দিনের পর দিন শত বাধা অতিক্রম করেও পথ কুকুরদের খাবার দিয়ে চলেছেন বিনা স্বার্থে। 
আসলে আমাদের দেশে এই পথ কুকুরদের ওপর আক্রমন করলে তেমন কোনো কঠোর আইন নেই, যাতে আততায়ী কড়া শাস্তি পেতে পারে। খুব কম অঙ্কের জরিমানা দিয়ে তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায়, আর এর ফলেই পথ কুকুরদের ওপর অত্যাচার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। পশুপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করে চলেছেন, কিন্তু আইন যাঁরা প্রণয়ন করেন, তাঁদেরকে বোধ হয় এখনো অনুপ্রাণিত করা যায় নি।