Wednesday, January 28, 2026

বাড়িতে পোষ্য আনার আগে এই দশটি বিষয় মাথায় রাখুন


বাড়িতে পোষ্য আনার আগে এই দশটি বিষয় মাথায় রাখুন বাড়িতে পোষ্য আনার আগে এই দশটি বিষয় মাথায় রাখুন


পশু বসুন্ধরা, পোষ্য, ২৮/০১/২০২৬ : 🐾 বাড়িতে পোষ্য নিয়ে আসার আগে এই দশটি বিষয় জেনে নেওয়া উচিত

পোষ্য মানেই শুধু আদর বা খেলার সঙ্গী নয়—পোষ্য মানে দায়িত্ব, সময় আর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি। অনেকেই আবেগে পড়ে কুকুর বা বিড়াল বাড়িতে নিয়ে আসেন, কিন্তু পরে সঠিক যত্ন না দিতে পেরে সমস্যায় পড়েন। তাই পোষ্য আনার আগে এই দশটি বিষয় অবশ্যই জেনে নেওয়া দরকার।

১. আপনি কি সত্যিই প্রস্তুত?
পোষ্য মানে ১০–১৫ বছরের দায়িত্ব। ভ্রমণ, কাজের চাপ, অসুস্থতা—সব অবস্থাতেই পোষ্যের দায়িত্ব নিতে পারবেন কি না, আগে ভাবুন।

২. সময় দেওয়ার মানসিকতা আছে তো?
কুকুর বা বিড়াল দু’জনেরই প্রতিদিন সময়, খেলা, যত্ন ও মনোযোগ দরকার। সময় না দিতে পারলে পোষ্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

৩. আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করুন
খাবার, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা, গ্রুমিং—সব মিলিয়ে মাসিক ও বার্ষিক খরচ কম নয়। এই খরচ বহন করতে পারবেন কি না, হিসেব করে নিন।

৪. পরিবারের সবাই কি রাজি?
বাড়ির সকল সদস্য, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের মতামত জানা জরুরি। কারও অ্যালার্জি বা আপত্তি থাকলে আগে সমাধান করুন।

৫. বাড়ির পরিবেশ উপযোগী তো?
ফ্ল্যাট না বাড়ি, খোলা জায়গা আছে কি না, আশপাশে হাঁটার জায়গা—পোষ্যের জন্য বাড়ির পরিবেশ উপযুক্ত হওয়া খুব জরুরি।

৬. কোন পোষ্য আপনার জন্য ঠিক?
কুকুর না বিড়াল? বড় না ছোট জাত ? সক্রিয় না শান্ত স্বভাবের পোষ্য—নিজের লাইফস্টাইল অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

৭. প্রশিক্ষণ দেওয়ার মানসিকতা আছে কি?
পোষ্যকে টয়লেট ট্রেনিং, আচরণগত প্রশিক্ষণ দিতে সময় ও ধৈর্য দরকার। প্রশিক্ষণ ছাড়া পোষ্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

৮. নিয়মিত ভেটেরিনারি সাপোর্ট আছে তো?

কাছাকাছি ভালো ভেটেরিনারি ডাক্তার বা পেট ক্লিনিক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৯. ভ্রমণ বা বাইরে গেলে পোষ্যের ব্যবস্থা কী হবে?
আপনি বাইরে গেলে পোষ্যের দেখাশোনা কে করবে, নাকি তাকে নিয়েই বেড়াতে যাবেন —এই পরিকল্পনা আগেই করে রাখুন।

১০. দত্তক নেওয়ার কথা ভেবেছেন কি?
রাস্তায় বা শেল্টারে থাকা অনেক পোষ্য ভালোবাসার অপেক্ষায় আছে। সম্ভব হলে দত্তক নেওয়ার কথাও  ভাবুন।

👉 মনে রাখবেন, পোষ্য আপনার জীবনের অংশ হবে, কিন্তু আপনি তার পুরো জীবন। তাই দায়িত্ব বুঝে, ভালোবাসা আর যত্ন দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই পোষ্য বাড়িতে আনুন।

Tuesday, August 26, 2025

পশ্চিমবঙ্গে নতুন দুই প্রাণী প্রজাতি আবিষ্কার

পশ্চিমবঙ্গে নতুন দুই প্রাণী প্রজাতি আবিষ্কার

পশু বসুন্ধরা, ২৬/০৮/২০২৫ : ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণ সংস্থা (ZSI)-র বিজ্ঞানীরা পশ্চিমবঙ্গে কোলেম্বোলার দুটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছে। কোলেম্বোলা হল, মাটিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র সন্ধিপদী প্রাণী, যেগুলি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্র্যকে আরও গভীরভাবে বোঝার পথ প্রশস্ত করেছে।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিদুটির নাম রাখা হয়েছে Salina aurantiamaculata এবং Salina pseudomontana। প্রথমটির নামকরণ করা হয়েছে এর উজ্জ্বল কমলা রঙের দাগের জন্য, আর দ্বিতীয়টির নাম এসেছে Salina montana প্রজাতির সঙ্গে এর শারীরিক সাদৃশ্যের কারণে।

এই আবিষ্কারটি ZSI-এর অ্যাপটেরিগোটা (Apterygota) শাখার গবেষক দল করেছেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডঃ গুরুপদ মণ্ডল। এই দলে এছাড়াও ছিলেন শ্রীমতী পৃথা মণ্ডল এবং ডঃ সুরজিৎ কর। গবেষণাটি ১৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত সাময়িক পত্রিকা Zootaxa-তে প্রকাশিত হয়েছে।

ZSI-এর নির্দেশক ডঃ ধৃতি ব্যানার্জি গবেষক দলের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করে কোলেম্বোলার পরিবেশগত গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেছেন, “কোলেম্বোলা মাটির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরা উপরিভাগের মাটির গঠন, পুষ্টি উপাদানের পুনর্ব্যবহার এবং জৈব পদার্থের পচন প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে।” তিনি আরও বলেছেন, “এদের ভূমিকা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, কিন্তু পরিবেশগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে তাদের গুরুত্ব অপরিহার্য।”

নতুন প্রজাতিদুটিকে স্বতন্ত্র করে তোলে এদের শরীরের চেটোট্যাক্সি বা লোমের বিন্যাস, ভিন্নধর্মী দেহবর্ণ এবং ফারকুলার (পেটের একটি কাঁটাযুক্ত অঙ্গ) গঠন। এতে রয়েছে একটি চতুষ্কোণ মুক্রো এবং শীর্ষভাগে দন্তাকৃতি উপাঙ্গ। প্রজাতিদুটি যৌগিক চোখযুক্ত, এবং এদের দেহে কোনো আঁশ নেই। উভয় প্রজাতিই সর্বব্যাপী বিস্তৃত celebensis গোষ্ঠীর অন্তর্গত।

ডঃ গুরুপদ মণ্ডলের মতে, এই আবিষ্কারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, এর ফলে ভারতে Salina গণের প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭-এ। ভারতে সর্বশেষ Salina প্রজাতি নথিভুক্ত হয়েছিল ১৯৭৯ সালে—ফলে দীর্ঘ বিরতির পর এই আবিষ্কার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই গবেষণা স্পষ্ট করে তোলে যে, এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলির বৈচিত্র্য এবং মাটির বাস্তুতন্ত্রে এদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অনুধাবনের জন্য ধারাবাহিক গবেষণা অপরিহার্য।” 



Sunday, August 10, 2025

আন্তর্জাতিক সিংহ দিবসে বন দপ্তর ফের দাবী করল দেশে সিংহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে

আন্তর্জাতিক সিংহ দিবসে বোন দপ্তর ফের দাবী করল দেশে সিংহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হরে বেড়েছে

পশু বসুন্ধরা , ১০/০৮/২০২৫ :  গতকাল ছিল ১০ই আগস্ট, কালকের দিনটিতে বিশ্বের সর্বত্র পালিতহয়েছে  আন্তর্জাতিক সিংহ দিবস বা World Lion Day হিসেবে। আর গতকালই ভারতের বন দপ্তর সিংহদের নিয়ে যে তথ্য সামনে এনেছে তা সত্যিই সন্তোষজনক।  ভারতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে সিংহদের সংখ্যা। 

বন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভারতে সিংহের সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২%. এই মুহূর্তে ভারতে সিংহের সংখ্যা ৮৯১ বলে জানিয়েছে বন দপ্তর। ২০২০ সালে সিংহের সংখ্যা ছিল ৬৭৪ আর  পাঁচ বছরে ৩২.২% বেড়ে এখন ভারতে সিংহ রয়েছে মোট ৮৯১টি. দেশে সিংহীর সংখ্যা ২৬০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩০টি। 

এই মুহূর্তে দেশের ৯টি জায়গায় রয়েছে সিংহ। বার্দা  স্যাংচুয়ারি, জেতপুর, বাবরা-জাসদন ইত্যাদি স্যাংচুয়ারি সমেত মোট ৯টি জায়গায় থাকা সিংহদের সংখ্যা ধরেই মোট সিংহের সংখ্যা প্রকাশ করেছে বন দপ্তর।  গুজরাটের আমরেলি জেলাতেই সবচেয়ে বেশি সিংহ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখানে মোট ৮২টি সিংহ, ১১৭টি সিংহী এবং ৭৯টি সিংহ শাবক রয়েছে। 

ভারতে যে সিংহগুলি রয়েছে, সেগুলি সবই এশিয়াটিক লায়ন গোত্রের সিংহ। দেশের অন্যত্র সিংহের সংখ্যা বাড়লেও গিরনার  এবং ভাবনগরে সিংহের সংখ্যা সামান্য কমেছে বলে জানানো হয়েছে বন  দপ্তরের রিপোর্টে।

Thursday, May 22, 2025

ভারতে সিংহের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে


ভারতে সিংহের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে


পশু বসুন্ধরা, ২২/০৫/২০২৫ :  ভারতে সিংহ শুমারী সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে ভারতে এশিয়াটিক সিংহের সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে এনেছেন   পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। 

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ভারতে সিংহের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। সিংহ বলতে এখানে এশিয়াটিক লায়নের কথাই  বলা হয়েছে।  এই মুহূর্তে ভারতে মোট ৮৯১টি সিংহ রয়েছে। ২০২০ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৬৭৪, কিন্তু ২০২৫ সালে দেখা যাচ্ছে ২১৭টি সিংহ বেড়ে গিয়েছে।  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী যে প্রজেক্ট লায়ন নিয়ে বিস্তর কাজ করে গিয়েছেন, তারই ফসল এই সিংহের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি।" 

পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সেইসব পশুপ্রেমী মানুষ, বনকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংঘঠনের সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের দেশে সিংহেরা  উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, তারা বেড়ে উঠতে পেরেছে। মন্ত্রী এই সব মানুষদেরকে 'বিকশিত ভারত' প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। 




Tuesday, March 25, 2025

জলপাইগুড়ির লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কচ্ছপ

জলপাইগুড়ির লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কচ্ছপ


পশু বসুন্ধরা, ২৫/০৩/২০২৫ :   লোকালয়ে কচ্ছপ ঘুরে বেড়াচ্ছে জলপাইগুড়িতে। উদ্ধার করে  করলা নদীতে ছেড়ে দেয় একটি স্বেছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা।  

জলপাইগুড়ি আসাম মোড়  সংলগ্ন লোটা দেবী মন্দিরের পুকুরের পাড় বাধানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্পোর। উল্লেখ্য এই পুকুরে এক সময় প্রচুর কচ্ছপ পাওয়া যেত এবং এই কচ্ছপ গুলোকে সংরক্ষণের জন্য স্পোর-এর পক্ষ থেকে বেশ কিছু বছর ধরে জনসচেতনতা প্রসার, মেলার সময় পুকুরের জল যাতে দূষিত না হয় সেদিকে নজর রাখা, খরার সময় পুকুরে কৃত্রিম উপায়ে জল সরবরাহ করা সহ একাধিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। কিন্তু তবুও সময়ের সাথে সাথে এই অঞ্চলে  কচ্ছপের সংখ্যা কমে যেতে  থাকে। 

ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফে শুরু হয় পুকুরের পাড় সংস্কারের কাজ। ফলে ওই পুকুর ছেড়ে কচ্ছপগুলো বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকে। আজ স্পোর এর সদস্য অর্কপ্রভ মজুমদার স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ওই পুকুরের বাইরে থেকে একটি ইন্ডিয়ান রুফ টারটেল উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সেই কচ্ছপটিকে করলা নদীতে ছেড়ে দেন। তিনি জানান, "কচ্ছপের বংশ বিস্তারের জন্য পুকুরের পাড় বাঁধানো ক্ষতিকর। কচ্ছপ সাধারণত  পুকুর থেকে উঠে এসে পুকুরের ধারের নরম মাটিতে ডিম পাড়ে। পুকুরের পাড় বাঁধানো থাকলে কচ্ছপ সেখানে ডিম পারবে না।   ফলে কচ্ছপের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।"

Thursday, March 20, 2025

গরুমারা অরণ্যে বাড়ল গন্ডারের সংখ্যা

  

গরুমারা অরণ্যে বাড়ল গন্ডারের সংখ্যা


আজ খবর (বাংলা),  লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ২০/০৩/২০২৫ :   গরুমারায় বাড়ল গন্ডারের সংখ্যা। বন  দপ্তর সূত্রে এই খবর পাওয়া গিয়েছে।  

গত ৫ এবং ৬ মার্চ গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অন্তর্গত গরুমারা জঙ্গল এবং চাপড়ামারি জঙ্গলে হয়েছিল গন্ডার শুমারি। গন্ডার শুমারি চলাকালীন বনকর্তারা আশায় ছিলেন গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আর সেই আশাই শেষমেশ সত্য হল। গরুমারা জঙ্গলে আগের থেকে বেড়েছেগন্ডারের সংখ্যা।  

গত ২০২২ সালের গন্ডার শুমারিতে গরুমারা জঙ্গলে ৫৫ টি গন্ডারের সন্ধান মিলেছিল। আর চলতি বছরের গন্ডার শুমারিতে  সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৬১। অর্থাৎ এবছরের গন্ডার শুমারীতে ৬ টি নতুন গন্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়। জানা গেছে, ২৭ টি স্ত্রী ও ১৭ টি পুরুষ গন্ডার রয়েছে।বাকি ১৭ টি গন্ডারের লিঙ্গ নির্ধারন করা যায়নি। গরুমারা বন্যপ্রান বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতীম সেন জানিয়েছেন, ২০২২ সালের পর গন্ডারের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬১ টি। কিন্তু সংখ্যায় প্রতি ১.৫৯ টি স্ত্রী গন্ডার পিছু  একজন করে পুরুষ গন্ডার রয়েছে।এই পুরুষ ও স্ত্রী গন্ডারের অনুপাত গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ভেতর গন্ডারের বসবাসের পক্ষে খুবই স্বাস্থ্যকর এবং আগামীতে গন্ডারের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Monday, February 3, 2025

পশু বসুন্ধরা, ০৩/০২/২০২৫ :  প্রকৃতির ওপর মানুষের আক্রোশ যেন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।  মানুষ রীতিমত লাগাম ছাড়া হয়ে উঠেছে এবং প্রায় দিনই প্রাকৃতিরমানবিক আচরণ করে মানুষ নিজেকে প্রকৃতির শত্রু করে তুলছে। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে। শীতকাল বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না. জীবন ধারণ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। প্রকৃতি খামখেয়ালির মত  আচরণ করছে। প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে মানুষের। 

উত্তরবঙ্গের কিছু সংখ্যক মানুষ প্রকৃতির সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে চলেছে। সব মানুষ নয়, কিছু মানুষ, তবে বেশিরভাগ মানুষই এই ধরনের  আচরণ করে চলেছে যার জেরে প্রকৃতি রুষ্ট হয়ে উঠছে। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র হল শিলিগুড়ি শহর. এই শহরের উন্নয়ন হয়েই চলেছে। এই শহরে মানুষের ভীড় বাড়ছে প্রতিদিন। নতুন নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। ফ্লাই ওভার তৈরি হচ্ছে। নতুন বহুতল উঠছে। গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে।  আর গাড়ির সংখ্যা যতই বাড়ছে এই শহরে দুর্ঘটনায় ততই বাড়ছে, আর সেই দুর্ঘটনায়  মানুষের পাশাপাশি মারা পড়ছে প্রচুর সংখ্যক পশুও।

শিলিগুড়ি শহরের অদূরেই রয়েছে মাটিগাড়া। এখানে রাস্তাঘাটে এখনও  যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায় গরু, মোষ, ষাঁড় ওই বাছুরের দোল. প্রায় এদেরকে হাই ওয়ের ওপর মোর পরে থাকতে দেখা যায়. যেখানে সেখানে পড়ে  থাকে পথ কুকুরের মৃতদেহ। মৃতদের  তালিকায় প্রায় থাকে চিতা , হাতি ও অন্যান্য পশুদের নামও।  শিলিগুড়ি শহরের দুই দিক থেকে দুই মহা অরণ্য, একটি হল মহানন্দা স্যাংচুয়ারি যা কিনা শুকনা ফরেস্ট, গুল্ম ফরেস্ট নামেও পরিচিত শহরের উত্তর দিকে। আবার নেপাল সীমান্তের দিকেও রয়েছে অরণ্য। শহরের আর এক দিকে রয়েছে বৈকুণ্ঠপুর অরণ্য।  সুতরাং এই অরণ্যগুলি থেকে প্রায়ই পশুরা বেরিয়ে আসে এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়. কিছুদিন আগেই ঘোষপুকুরের কাছে একটি বাঘ সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে  প্রাণ হারিয়েছে।

উত্তরবঙ্গের কিছু সংখ্যক মানুষের যেন প্রকৃতির সাথে সংঘাত একটু বেশিই। তাঁদের বক্তব্য অরণ্য থাকুক না থাকুক তাঁদের নিশ্চিন্ত বসবাস যেন থাকে। বোনের সম্পদ যেন তাঁদের জন্মগত সম্পদ। এবং সেগুলি তাঁদের অকাতরে ব্যবহার করার অধিকার রিয়েছে একতরফা। সেই সম্পদ আহরণ করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে যাবে বছরের পর বছর.  তারা গাছ কেটে নিয়ে যাবে, বোন ধ্বংস করবে, পশু চোরাকারবারিদের সাহায্য করবে কিন্তু তাতে  তাদেরকে কিছু বলা যাবে না. অতচ তাদের রক্ষা করতে সরকার সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পশুদের দ্বারা তাদের  কোনোরূপ ক্ষতি হলে সরকার তার ক্ষতি পূরণ করবে। অথচ সরকারের কোনো নিয়ম তারা মানবে না. 

ডুয়ার্স এলাকায় কোনো জায়গায় হাতি বের হলে  পিল পিল করে এই ধরনের মানুষ সেই হাতিদেরকে ঘিরে ধরে তাড়া  দে. ইঁট  ছোঁড়ে, পাঠে ছোঁড়ে। হল্লা করে. এমন একটা ভাব করে যেন তারা কখনো হাতি দেখে নি. জঙ্গলে প্রচন্ড খাদ্যাভাব থাকায় প্রায় পশুরা বাইরে বের হয়ে আসছে। তারা অরণ্যের প্রান্তে থাকা গ্রামগুলিতে হানা দিয়ে খাদ্য জোগাড় করে নিয়ে যায়. এই পশুদের দূর থেকে দেখতে যাওয়ার অছিলায় কিছু মানুষ তাদের বিরক্ত করে , ঢিল ছোঁড়ে। হল্লা করে পশুদের ভয় দেখায়। এই পশুগুলো যে সবসময় ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে তা নয়. 

ডুয়ার্স বা পাহাড় অঞ্চলে প্রায়ই দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে বানরের দোল জঙ্গল ছেড়ে বাইরে রাস্তার ধরে এসে ভীড় করে কার্যত ভিক্ষা করছে একটুকু খাবারের জন্যে।  জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা ভাগ বিড়ালকে মেরে দেওয়া হচ্ছে। সাপ মেরে দেওয়া হচ্ছে। ভালুককেও মেরে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দর দেখতে পাখি এবং ময়ূর হলে তো আর রক্ষে নেই. দুদিন আগেই দমদম এলাকায় একটি ডেন্টাল হাতি মেচি নদীর ছোড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।  খাবারের সন্ধানে সে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল, বোন দপ্তর দুদিন ধরে তাকে ফের অরণ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার চেস্ট চালাচ্ছিল. এর মধ্যেই বিশাল জনতা হাতিটিকে ঘিরে ধরে ঢিল ছুঁড়তে শুরু করে. হাতিটি ক্ষেপে গিয়ে একটি ওয়াচ টাওয়ারে আক্রমণ চালায়। ঐ  ওয়াচ টাওয়ারের মাথায় তখন পর্যাতকেরাও ছিল. এর পরেই একটি জেসিবি মেশিন নিয়ে হাতিটিকে আক্রমণ করা হয়. জেসিবির সাথে তুমুল সংঘাত হয় ওই  হাতিটির। জেসিবি সামনের লোহার দাঁতগুলো ভেঙে হাতির মাথায় বসে যায়. হাতির নিজের দাঁতগুলিও মাথার মধ্যে ঢুকে যায়. ঐ  অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া হয়. ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই হাতিটি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।  পরে ঐ  জেসিবি চালককে আটক করে পুলিশ। 

একই রকম ঘটনা কিছুদিন আগেই ঘটেছিল ঝাড়গ্রামে এক অন্তঃসত্ত্বা হাতির কপালে। ডুয়ার্সে নেপুচপুর চা বাগানে একটি খাঁচায় একটা চিতাবাঘ ধরা পড়ে।  এখানেও ভীড় করে মানুষ তাকে দেখতে আসে শুরু হয় সেলফি  তোলার হিড়িক। তিক্তক, রিলিস ইত্যাদি। এমন সময় খেয়াল করা যায় চিতার লেজটি একটি যেন বেরিয়ে আছে. ব্যাস, সঙ্গে সং চিতার লেজ ধরে টানামানি শুরু হয়ে যায়. চিতাবাঘটি খাঁচার মধ্যে যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে।  এই ঘটনাগুলো তও খবর হয়, এমন কত যে ঘটনা ঘটে যা কিনা খবর হয় না, তার কোনো হিসেব নেই.  

এই ধরনের ঘটনা যতই ঘটতে থাকবে ততই প্রকৃতির ওপর অত্যাচার বেড়েই চলবে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে যতই গাছ কাটা হবে ততই রুষ্ট হয়ে উঠবে প্রকৃতি, গরম বাড়বে হাওয়ায়। বাতাসে মিশবে বিষ. প্রতি বছর নানান নামে ফিরে  আসবে বিষাক্ত ভাইরাস, লাগবে মোড়ক। আর তাতে মারা পর্বে মানুষই।  উন্নয়নের চোখ ধনাঢ্য আলোয় মানুষ এখন বুঝেও হয়ত বুঝছে না, কিন্তু যখন বুঝবে তখন বোধ হয় অনেকটা দেরি হয়ে যাবে।