পশু বসুন্ধরা, পোষ্য, ২৮/০১/২০২৬ : 🐾 বাড়িতে পোষ্য নিয়ে আসার আগে এই দশটি বিষয় জেনে নেওয়া উচিত
পোষ্য মানেই শুধু আদর বা খেলার সঙ্গী নয়—পোষ্য মানে দায়িত্ব, সময় আর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি। অনেকেই আবেগে পড়ে কুকুর বা বিড়াল বাড়িতে নিয়ে আসেন, কিন্তু পরে সঠিক যত্ন না দিতে পেরে সমস্যায় পড়েন। তাই পোষ্য আনার আগে এই দশটি বিষয় অবশ্যই জেনে নেওয়া দরকার।
১. আপনি কি সত্যিই প্রস্তুত?
পোষ্য মানে ১০–১৫ বছরের দায়িত্ব। ভ্রমণ, কাজের চাপ, অসুস্থতা—সব অবস্থাতেই পোষ্যের দায়িত্ব নিতে পারবেন কি না, আগে ভাবুন।
২. সময় দেওয়ার মানসিকতা আছে তো?
কুকুর বা বিড়াল দু’জনেরই প্রতিদিন সময়, খেলা, যত্ন ও মনোযোগ দরকার। সময় না দিতে পারলে পোষ্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
৩. আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করুন
খাবার, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা, গ্রুমিং—সব মিলিয়ে মাসিক ও বার্ষিক খরচ কম নয়। এই খরচ বহন করতে পারবেন কি না, হিসেব করে নিন।
৪. পরিবারের সবাই কি রাজি?
বাড়ির সকল সদস্য, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের মতামত জানা জরুরি। কারও অ্যালার্জি বা আপত্তি থাকলে আগে সমাধান করুন।
৫. বাড়ির পরিবেশ উপযোগী তো?
ফ্ল্যাট না বাড়ি, খোলা জায়গা আছে কি না, আশপাশে হাঁটার জায়গা—পোষ্যের জন্য বাড়ির পরিবেশ উপযুক্ত হওয়া খুব জরুরি।
৬. কোন পোষ্য আপনার জন্য ঠিক?
কুকুর না বিড়াল? বড় না ছোট জাত ? সক্রিয় না শান্ত স্বভাবের পোষ্য—নিজের লাইফস্টাইল অনুযায়ী নির্বাচন করুন।
৭. প্রশিক্ষণ দেওয়ার মানসিকতা আছে কি?
পোষ্যকে টয়লেট ট্রেনিং, আচরণগত প্রশিক্ষণ দিতে সময় ও ধৈর্য দরকার। প্রশিক্ষণ ছাড়া পোষ্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
৮. নিয়মিত ভেটেরিনারি সাপোর্ট আছে তো?
কাছাকাছি ভালো ভেটেরিনারি ডাক্তার বা পেট ক্লিনিক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৯. ভ্রমণ বা বাইরে গেলে পোষ্যের ব্যবস্থা কী হবে?
আপনি বাইরে গেলে পোষ্যের দেখাশোনা কে করবে, নাকি তাকে নিয়েই বেড়াতে যাবেন —এই পরিকল্পনা আগেই করে রাখুন।
১০. দত্তক নেওয়ার কথা ভেবেছেন কি?
রাস্তায় বা শেল্টারে থাকা অনেক পোষ্য ভালোবাসার অপেক্ষায় আছে। সম্ভব হলে দত্তক নেওয়ার কথাও ভাবুন।
👉 মনে রাখবেন, পোষ্য আপনার জীবনের অংশ হবে, কিন্তু আপনি তার পুরো জীবন। তাই দায়িত্ব বুঝে, ভালোবাসা আর যত্ন দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই পোষ্য বাড়িতে আনুন।








