Wednesday, September 23, 2020

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফের একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যু দেশ

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফের একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যু


পশু বসুন্ধরা, রায়গড়, ছত্তিশগড়, ২৩/০৯/২০২০ :  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফের একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। এবার ঘটনাস্থল ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়গড় জেলা।

আজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়গড় জেলার ধর্মজয়গর গ্রামের কাছে।  মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন বনকর্মীরা ।

বনকর্মীরা জানিয়েছেন, "ধর্মজয়গর গ্রামের কাছেই খাবারের খোঁজে অরণ্য থেকে বেরিয়ে এসে খোলা মাঠের ধরে একটি ফার্ম হাউসের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল ওই হাতিটি। ফার্ম হাউসের চারদিকে যে পাঁচিল ছিল, সেই পাঁচিলের গা ঘেঁষে লাগানো ছিল খোলা ইলেক্ট্রিকের তার আর সেই তারে দেওয়া ছিল হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ। সেই তারের সংস্পর্শে আসতেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।"

বন্ কর্মীরা ওই হাতির মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্যে নিয়ে গিয়েছেন। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, মাঠের ধরে ফার্ম হাউসে অবৈধভাবে বিদ্যুতের বেড়া দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ব্যাপারে বনকর্মীরা তদন্ত করে দেখছেন । তাঁরা জানিয়েছেন দোষী প্রমাণিত হলে অপরাধী ছাড়া পাবে না। যে হাতিটি মারা গিয়েছে সেই হাতির বয়স ৩০ বছর বলে জানিয়েছেন বন কর্মীরা। গত ৩ মাসে ছত্তিশগড় রাজ্যে বিভিন্ন কারনে মোট ৯টি হাতির মৃত্যু হল এই হাতিটিকে নিয়ে। এর আগেও ছত্তিশগড়ে এভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 

সৌজন্যে : ANI

Sunday, August 23, 2020

পথ কুকুরকে পিষে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হলেন টুইঙ্কল খান্না

পথ কুকুরকে পিষে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হলেন টুইঙ্কল খান্না

পশু বসুন্ধরা, মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ২৪/০৮/২০২০ : পাঞ্জাবের একটি রাস্তায় এক পথ কুকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গাড়ি চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রাতিবাদে সরব  হলেন প্রাক্তন অভিনেত্রী টুইঙ্কল খান্না। 

কিছুদিন আগেই পাঞ্জাবের একটি রাস্তায় শুয়েছিল একটি পথ কুকুর। রাস্তার ধারে  দাঁড়িয়েছিল একটি গাড়ি । চালক গাড়িতে উঠেই সামনে শুয়ে থাকা পথ কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবেই পিষে দিয়ে চলে যায়। যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠে কোনো ক্রমে পালাবার চেষ্টা করে ওই কুকুরটি। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভিতে উঠে যায় এবং সেই ভিডিও ফুটেজ ক্রমেই ভাইরাল হতে থাকে। নেটিজেনরা প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন। 

এই ঘটনা নিয়েই টুইঙ্কল খান্না বিজেপি নেত্রী পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধীকে ট্যাগ করে টুইট করেন। টুইঙ্কল লেখেন, "ওই পিশাচরূপী চালককে গ্রেপ্তার করা উচিত। কিভাবে কেউ ঘুমন্ত পশুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিতে পারে ! ওই চালকের উপযুক্ত শাস্তি হাওয়া উচিত।" প্রাক্তন অভিনেত্রীর কথায় শুধু নয়, শোনা যাচ্ছে মানেকা গান্ধী দেশের বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন থেকে অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা নিতে চলেছেন। জানা  গিয়েছে, ওই চালক নিজে একজন ডগ ব্রিডার। কিন্তু দেশের পশু প্রেমীরা সেকথা মানতে নারাজ, তাঁদের বক্তব্য, 'যে ডগ ব্রিডার হবে, সে কখনোই কোনো কুকুরকে এভাবে পিষে দিয়ে চলে যেতে পারে না'।

পশু নির্যাতনের করলে কঠোর আইন আনছে কেন্দ্র সরকার

পশু নির্যাতনের করলে কঠোর আইন আনছে কেন্দ্র সরকার

পশু বসুন্ধরা, ২৪/০৮/২০২০ : পশুদের ওপর এক শ্রেণীর মানুষের নির্মম অত্যাচার ক্রমেই মাত্রা ছাড়িয়েছে আমাদের দেশে। এবার পশু নির্যাতন নিয়ে কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার।

এক শ্রেণীর মানুষ পশুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে পৈশাচিক  আনন্দ পায়। আর সেই কারণেই কোথাও পথ কুকুরদের বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, কোথাও বা তাদের লেজে কালি পটকা লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও গরম জল ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বা এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে প্রতিটা শহরে পথ কুকুরদের গাড়ির চাকার তলায় মৃত্যুর  ঘটনা অহরহ ঘটছে, এই ঘটনা সংখ্যা দিয়ে গুনে শেষ করা যাবে না।

শুধু পথ কুকুর নয়, বন্য পশুদেরকেও অত্যাচারের মুখে পড়তে হচ্ছে। কিছুদিন আগে কেরালাতেই একের পর এক হাতির মৃত্যু হয়েছে এক ধরনের মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়ে। কর্নাটকে গরুর মৃত্যু হয়েছে বনশূকরকে ফাঁদ  হিসেবে রেখে যাওয়া বোমা খেয়ে ফেলে। দেশের অভয়ারণ্যগুলিতেও দৌরাত্ম বেড়েছে চোরাশিকারিদের। এছাড়াও অরণ্য ছেড়ে লোকালয়ের কাছাকাছি বেরিয়ে আসার অপরাধে বন্য পশুদের নির্মম অত্যাচারের মুখে পড়তে হচ্ছে হামেশাই।

কিন্তু কেন পশুদের ওপর মানুষের এত অত্যাচার ? তার অন্যতম প্রধান কারন হল আমাদের দেশে পশু নির্যাতনের জন্যে তেমন কোনো কঠোর আইন নেই। পশুপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন এই বিষয়টি নিয়ে। তাঁরা এই আইন আরও কঠোর করার দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু পশু নির্যাতন নিয়ে দেশের যে আইন রয়েছে, তা এতই দুর্বল,  সেটা এতদিন কারোরই নজরে আসেনি। 

আমাদের দেশে পশু নির্যাতন নিয়ে যে আইন আছে, সেটি হল সংবিধানের ১১(১) ধারা। যাকে বলা  হয় Protection to Animal Cruelty Act 1960 (PCA). এই আইনটি তৈরি হয়েছিল ১৯৬০ সালে। যে আইনের বলে পশুদের ওপর অত্যাচার  করলেও মাত্র ১০ থেকে ৫০ টাকা জরিমানা দিলেই পার পাওয়া যায়। এই আইনটিই এখনো বলবৎ রয়েছে। গত ৬০ বছর ধরে এই আইনটিকে সংশোধন করার কথা মনেই হয় নি আমাদের দেশের আইন প্রণেতাদের। যার ফলে, এতদিন ধরে পশুদের ওপর নির্যাতন করেও দিব্যি পার পেয়ে যায় এক শ্রেনীর মানুষ। এর সাথেও আছে আর একটা কারন, আর সেটা হল শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব।

এবার কিন্তু আইন প্রণেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। পশু নির্যাতনের এই আইনকে সংশোধন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন দেশের আইন প্রণেতারা। দেশের সোশ্যাল জাস্টিস এন্ড এমপাওয়ারমেন্ট মন্ত্রী থাওয়ারচাঁদ গেহলট সহ মোট ১২ জন এমপি লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন দেশের পশুসম্পদ ও ডেয়ারি মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহকে। ওই ১২ জন এমপির মধ্যে  রয়েছেন বিজু জনতা দলের সাংসদ  অনুভব মোহান্তি, কংগ্রেসের সংসদ মহম্মদ জাভেদ ও বিবেক তানখা। গিরিরাজ সিংহ নিজে এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব নিয়ে দেখছেন, তিনি মন্তব্য করেছেন, "গত ৬ দশক ধরে এই আইনটিকে কঠোর করার কথা আগে কেন কোনো আইন প্রণেতা ভেবে দেখলেন না ! এই আইনটিকে অবশ্যই সংস্কার করা উচিত, এবং তা দ্রুত করা হবে।"

তবে এ কথা ঠিক, লোকসভার সদ্দস্য হয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী একবার সংসদে এই ধরনের দাবী তুললেও সেবার তাঁর বক্তব্য সেভাবে গুরুত্ত্ব পায় নি। কিন্তু এবার এই আইন সংশোধিত হতে চলেছে। তবে সার্কাসে যে সব পশুদেরকে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে গিরিরাজ সিংহ কোনো কথা বলেন নি। কেননা সেই ব্যাপারটা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 

Wednesday, July 29, 2020

বন্যা পরিস্থিতিতে অসমে খাদ্য সঙ্কটে বন্য পশুরা

 দেশ

পশু বসুন্ধরা, ২৯/০৭/২০২০ : আসামে চলছে ভয়াবহ বন্যা। বন্য পশুরা প্রাণ বাঁচাতে এবং একটু খাবারের আশায় বন্ থেকে বেরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতে আজ আসামের পবিতরা অভয়ারণ্য থেকে বেরিয়ে এসে কাছাকাছি লোকালয়ে ঘুরতে দেখা গেল এক জোড়া গন্ডারকে।
আসামে প্রতি বছর বন্যায় অভয়ারণ্যগুলির বেশিরভাগ জায়গা ডুবে যায়. আর অরণ্যের বন্য পশুরা আশ্রয়ের খোঁজে বন থেকে বেরিয়ে আসে আশ্রয়ের খোঁজে। এই বছর শুধু কাজিৰঙা আড়ানিতেই ১৩২ টি বন্য পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারা গিয়েছে। কাজিরাঙায়া অভয়ারণ্যের বেশিরভাগ জায়গা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। 
আসামের বন্যায় এখনো পর্যন্ত ৫৩০৪ টি গ্রামে মোট ৫৬০১৭০৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন , যার মধ্যে এখনো পর্যন্ত ১০৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাম্ভপুত্রের জল হু হু করে ঢুকছে কাজিৰঙা অভয়ারণ্যে। ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়ক এখন শুধুমাত্র ছোট গাড়িগুলির জন্যেই খোলা রয়েছে। 


কিছুদিন আগেই পবিতরা অভয়ারণ্যের কাছে ময়ুঙ ও  মোরিগাঁও এলাকায় জনবসতির কাছেই একটি মা গন্ডারকে তার শাবককে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। তারা খাবারের খোঁজে জনবহুল জায়গায় উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অরণ্যের মধ্যে এখন একটুও খাবার নেই,  যেখানে আছে সেখানে হয়ত বন্য পশুরা পৌঁছাতেই পারছে না. তাছাড়া এই মুহূর্তে আসামে যে বন্যা পরিস্থিতি চলছে, তাতে করে বন কর্মীরাও বন্য পশুদের খাবার পৌঁছে দিতে পারছে না. যার ফলে বন্য পশুরা খেতে না পেয়ে মারা যাচ্ছে।

Tuesday, July 21, 2020

মুখে বোমা ফেটে নির্মম মৃত্যু একটি গরুর

দেশ

পশু বসুন্ধরা, ২১/০৭/২০২০ : মহীশূর, কর্নাটক, ২১/০৭/২০২০ : কর্নাটকের মহীশূরের কাছে এইচ ডি কোটে নামে একটি জায়গায় একটি গরু ঘাস খেতে  গিয়ে মাঠের ধারে পড়ে  থাকা  একটি বোমা খেয়ে ফেলে। 
বোমাটি গরুটির মুখেই ফেটে যায়;. মারাত্মকভাবে জখম হয় ওই গরুটি। এরপর  পশু চিকিৎসকেরা প্রচুর চেষ্টা করেন  ওই গরুটিকে বাঁচিয়ে তোলার। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে গরুটি মারা যায়। এরপর যার গরু সেই চাষিটি গরুর গায়ে বিষ মাখিয়ে ফেলে রাখে। যাতে ওই গরুর মাংস খেতে এসে এলাকার শুকরগুলি মরে যায়। কাছাকাছি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা জংলী শূকরগুলিকে মেরে ফেলতেই এমন ব্যবস্থা করেছিল অভিযোগ উঠেছে ওই চাষীর বিরুদ্ধে। 
এই ঘটনায় স্থানীয় পশু প্রেমীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন এবং ওই চাষীর শাস্তি চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। আমাদের দেশে বন্য পশু হোক বা গবাদি পশু, সকলেই এক ধরনের বিকৃত মানসিকতার  মানুষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েই চলেছে। সংবিধানে কোনো কঠোর শাস্তির বিধান নেই বলেই বেড়ে চলেছে এই ধরণের নিষ্ঠুর  অত্যাচারের ঘটনাগুলি। অন্তত আমাদের দেশের পশুপ্রেমীরা সেটাই বলছেন।

Monday, July 20, 2020

ওড়িশার বালাসোর থেকে উদ্ধার হল অতি বিরল প্রজাতির হলুদ কচ্ছপ

দেশ

পশু বসুন্ধরা, বালাসোর, পরীক্ষা, ২০/০৭/২০২০ : স্থানীয় মানুষজনের সহায়তায় এবার ওড়িশার বালাসোর থেকে উদ্ধার করা হল  অতি বিরল প্রজাতির  হলুদ কচ্ছপ।
হলুদ কচ্ছপ বা ইয়েলো  টার্টেলকে দেখতে খুব সুন্দর। এদের শরীরের মাংসল অংশটি হয় হালকা হলুদ রঙের আর পিঠের আচ্ছাদনটি হয় চকচকে হলুদ রঙের। আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে ফ্লোরিডা এবং ভার্জিনিয়ার মাঝে এই কচ্ছপকে দেখতে পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার এই হলুদ কচ্ছপকে বাড়িতে পোষ্য হিসেবে রাখে আমেরিকার এই অঞ্চলে। তাবে আমাদের দেশে এই হলুদ কচ্ছপের সংখ্যা খুবই নগন্য। 
আমেরিকায় এই কচ্ছপকে 'ইয়েলো বেলিড স্লাইডার' নামেও ডাকা হয়। ওড়িশার বালাসোরে সোরো এলাকার সুজনপুর গ্রাম থেকে একটি হলুদ কচ্ছপকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে গ্রামবাসীরা সেটিকে দেখতে পেয়ে একটি জায়গায় ঘিরে রাখে। পরে বন দপ্তরের কর্মীরা এসে হলুদ কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বালাসোরের ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন ভানুমিত্র আচার্য বলছিলেন, "এই কচ্ছপটির  গোটা গা সম্পূর্ণ হলুদ রঙের। আমি জীবনে এইরকম কোনো কচ্ছপ কোথাও দেখিনি। আমরা খুঁজে দেখব এই অঞ্চলেই এই ধরনের আর কোনো কচ্ছপ পাওয়া যায় কিনা।"


গত মাসে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার দেউলি ড্যাম এলাকা থেকে মাঝি ও জেলেরা উদ্ধার করেছিল ট্রিনোয়চিদে কচ্ছপ। এটিও বিরল প্রজাতির কচ্ছপ বলে জানা গিয়েছে। পরে সেটিকে দেউলি ড্যাম এলাকার অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। হয়ত এই হলুদ কচ্ছপকেও অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা ভিতরকনিকা  কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে সংরক্ষণ ও প্রজননের কারণে।
ট্রিনোয়চিদে কচ্ছপ আসলে সফটসেল কচ্ছপের সমগোত্রীয়। এগুলিকে বেশিরভাগ দেখা যায় আফ্রিকা, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার কিছু জায়গায়। এগুলির গড় ওজন হয় ৩০ কিলোগ্রামেরে মত এবং এগুলির আয়ু হয় ৫০ বছরের মত । আমাদের দেশে এই ধরনের কচ্ছপ বিরল প্রজাতির মধ্যেই পড়ে।

Thursday, July 16, 2020

রান্নাঘরে বাঘ, রান্না করতে ঢুকে হতবাক গৃহিনী

দেশ

পশু বসুন্ধরা, ১৬/০৭/২০২০ : রান্নাঘরে রান্না করতে ঢুকেই যে এহেন পরিস্থিতিতে পড়বেন তা ঘুনাক্ষরেও বিঝতে পারেন নি বাড়ির গৃহিনী। রান্নাঘরে হাজির ব্যাঘ্র পরিবারের আর এক গৃহিনী !  
আজ আসামের নওগাঁ জেলার বাঘমারী এলাকার বাগোরি অরণ্যের কাছে একটি বাড়িতে গৃহিনী রান্নাঘরে ঢুকতেই দেখেন রান্না ঘরে টান টান হয়ে শুয়ে আছে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। গৃহিণীকে দেখেই বাঘিনী তাঁর দিকে জুল জুল করে তাকিতে থাকে। ভয়ে তখন গৃহিণীর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। এ যেন সেই সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবির অবিকল দৃশ্য, 'তুমি যে এ ঘরে কে তা জানতো' ! কোনোক্রমে রান্না ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে আসেন সেই গৃহিনী। এত কিছুর মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন বলেই বোধ হয় রান্নাঘরের দরজা তিনি বন্ধ করে দিতে পেরেছিলেন। যে কারণে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। 
বাঘিনী কোনো উৎপাত না করেই রান্নাঘরে দিব্যি শুয়ে ছিল। সেভাবে কোনো তর্জন গর্জনও করেনি সে।এদিকে এলাকায় রটে যায় 'রান্নাঘরে বাঘ' শব্দ দুটি, আর নিমেষে গ্রামের মানুষ ভীড় জমাতে থাকে সেই বাড়ির আশেপাশে। খবর যায় বন দপ্তরে। বাঘটিকে ভাল করে দেখতে আর তার মতি গতি বুঝতেই বন দপ্তরের লেগে যায় অনেকটা সময়, তারপর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করে বন দপ্তরের কর্মীরা ট্র্যাঙ্কুলাইজ করে বাঘিনীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। 
বন দপ্তর এই বাঘিনিকে উদ্ধার করার পরে উপস্থিত গ্রামবাসী এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তাদের কাজে সহযোগিতা করার জন্যে। আপাতত বাঘিনীকে রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে গিয়ে কয়েকদিন নিরীক্ষণ করা হবে, যদি তেমন কোনো অসুস্থতা না থাকে, তাহলে তাকে ফের গবীর অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।